[Home]
Table of contents
আমার বহুদিনের শখ ছিল নিজে নিজে কোনো সুর দেব৷ ইচ্ছাটা বহু লোকেরই হয় বলে আমার ধারণা৷ এবং সেই চাহিদা মেটাতে
অনেক বইও লেখা হয়েছে বিদেশে৷ তার কয়েকটা নাড়াচাড়া করে দেখেছিলাম৷ পড়ে বেশ মজা লাগে, মনেও জোর পাওয়া
যায়, আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়৷ কিন্তু যেই সেই সব বইয়ের ফর্মুলা খাটিয়ে সুর দিই, আত্মবিশ্বাসটা ফের কমে যায়৷ একবার ভাবলাম
চেনা গানের সুরগুলোই নিজে নিজে দেওয়ার চেষ্টা করি, মানে স্মৃতি থেকে স্বরলিপি বানানোর চেষ্টা আর কি! তার ফলে চেনা গানগুলো
এমন আশ্চর্যরকমের অচেনা হয়ে উঠল যে আর বলার নয়! তার পর ভাবলাম চেনা গানের স্বরলিপি দোকান থেকে কিনে দেখি তার
মধ্যে কোনো প্যাটার্ণ চোখে পড়ে কি না৷ গ্রাফ-ট্রাফ এঁকে দেখলাম৷ নাঃ কিছুই বোঝা গেল না৷ একবার
মনে হল রাগরাগিণীগুলো
জানলে বোধহয় সুবিধা হবে৷ কিছু বই এনে পড়া গেল৷ মাথায় ঢুকল না কিছুই! অন্যসব কাজের ফাঁকে ফাঁকে এইসব চেষ্টা
চালাই, আর মনে মনে মুষড়ে পড়ি৷
আমার একটা শখ ছিল (এবং আছে), সেটা হল বিদ্ঘুটে সুরে কবিতা আবৃত্তি৷ মূলতঃ সুকুমার রায়ের কবিতা, কখনো বা
স্বরচিত৷ এক দিন অফিসে যাবার আগে গলা ছেড়ে ''বাদুড় বলে ওরে ও ভাই সজারু'' আবৃত্তি করছি৷ বেশ মুড এসে গেছে৷
হঠাৎ মনে হল আচ্ছা, সব ফর্মুলা-টর্মুলা ভুলে এই মুডটা কি পিয়ানোতে তোলা যায় না? অফিস থেকে ফিরেই চেষ্টাটা করা গেল,
এবং কি আশ্চর্য, অনায়াসেই একটা সুর বেরিয়ে এল, যেটা আমার আবৃত্তির সেই বিদ্ঘুটে সুরটাই! সুরটা সুন্দর বলে দাবী করছি
না, বস্তুতঃ বিদ্ঘুটে করেই আবৃত্তি করছিলাম৷ কিন্তু আনন্দের কথা হল আমার মনের সুরটাই পিয়ানোতে তুলতে পারা৷
সেই থেকে কাজটা মাঝেমাঝেই অবসর পেলে করে থাকি৷ একটা কবিতা প্রথমে নিজের মত করে আবৃত্তি করি৷ একটু বেশী আবেগ
ঢেলে, যাতে গানের মত শোনায়৷ যখন সেটা মন মত হয়, তখন পিয়ানোতে বসে টুংটাং করে সুরটা তুলে ফেলি৷ এইভাবেই নীচের
সুরগুলোর জন্ম৷
-
অন্নের লাগি মাঠে
-
বাবুরাম সাপুড়ে
-
বিদ্ঘুটে রাত্তিরে ঘুট্ঘুটে ফাঁকা
-
বিরাম কাজেরই অঙ্গ
-
ফস্কে গেল
-
আহ্লাদী
-
স্বরচিত
-
খিচুড়ি
-
স্বরচিত
-
পুঁথিকাটা ওই পোকা
- রামগরুড়ের ছানা [প্রথম পাতা |
দ্বিতীয় পাতা]
-
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
-
স্ফূলিঙ্গ তার পাখায় পেল
-
শুনেছ কী বলে গেল সীতানাথ বন্দ্যো
-
স্বপ্ন আমার জোনাকি
-
পাজি পিটারের গান