আহা, যদি সেই নবযৌবন
আবার আসিত ফিরে!
রাজমুকুট কে চাহিত তখন
পরিতে পলিত শিরে?
বয়সের বলি-কুঞ্চনরেখা
জ্ঞানবৃদ্ধের ভালে
বহু বছরের সঞ্চিত শেখা
ছুঁড়ে ফেলে জঞ্জালে--
মুহূর্তমাঝে নেচে উঠিতাম
বাল্যের উচ্ছ্বাসে!
আহা সেই সুখ, স্বপ্নসমান,
সত্যই যদি আসে!
কিমাশ্চর্য সেই শুভক্ষণ!
দেবতার দূত দ্বারে
আসিয়া হাসিয়া কহিল--স্বপন
সত্য হতেই পারে!
জীর্ণ এ জরা হবে ইতিহাস
বার্ধক্যের ইতি--
ভেবে দ্যাখ্ কিছু রেখে দিতে চাস্?
ভবিষ্যতের স্মৃতি?
মনে পড়ে গেল পত্নীর প্রেম
আহা, প্রিয়তমা নারী,
কত বরষের নিকষিত হেম
তারে কি ছাড়িতে পারি!
স্বর্ণ আখরে লিখিল সন্ত,
মধুর হাস্যধারে--
বৃদ্ধ হইবে বালক কিন্তু
জায়া-সমভিব্যাহারে!
লিখিয়া চাহিল পুন পানে মোর--
আর কিছু চাস্ সাথে?
জরা যাবে যবে রবে না কো তোর
আর কোনো কিছু হাতে!
না, না, চাই বটে, ছেলে মেয়ে কটি,
ওদের কি করে ছাড়ি!
ও গো দেবদূত করি গো মিনতি
ওদের রাখিতে পারি?
সন্ত তখন ত্যজিয়া লেখনী
কহিল উচ্চহাসে--
তুই যদি, বোকা, নিজে খোকা হবি
তোর খোকা কিসে আসে?
আপন কাণ্ডে হেসে উঠি যেই
ঘুম গেল মোর টুটে
বুড়োদের তরে এ কবিতা তাই
লিখেছি সকালে উঠে৷