[Home]
Table of contents
কোথা গেল কালো জিরে?
কি সংক্রান্তি শিরে!
গরম কড়ায় ফুটে ফুটে হায়
পুড়ে বুঝি গেল তেল,
এ কি নিয়তির খেল
জিরের কৌটো ফেলেছি হারিয়ে এমনি বেআক্কেল!
Life হয়ে গেল hell!
রান্নাটা নাকি শিল্প একটা, বলে কোন রাস্কেল?
সহিতে না পেরে জ্বালা
এত যে শান্ত, আমি নিতান্ত
আমিও বলিনু--শালা!
পেটের ভৃত্য হইয়া নিত্য এ কি মহা ঝালাপালা?
হোটেলেই খাব করিলাম স্থির, ভাবিনু মিটিল জ্বালা৷
দুতিন বন্ধু মিলে
মা কালি হিন্দু হোটেলে দু'বেলা মাছভাত আসি গিলে৷
প্রতি গ্রাসে প্রাণ করে আনচান, পেটে চমকায় পিলে৷
পাতের উপরে ভাত যত কমে, টাকা তত বাড়ে বিলে৷
করি করাঘাত শিরে
কান্না চাপিয়া রান্নাঘরেতে প্রবেশ করিনু ফিরে৷
তখন ক্রমশঃ ধীরে
বুঝিতে পারিনু কেন এত লোকে ভালোবাসে পত্নীরে!
কৌমার্যের তীরে
পাকশালা-পাঁকে পড়েছি বিপাকে আমি হেথা একাকীরে৷
সেই মাহেন্দ্রক্ষণে
বুদ্ধি জোগাল মনে--
খবর কাগজ খুলি রোজ রোজ বিয়ের বিজ্ঞাপনে
চক্ষু বোলালে মোর পোড়া ভালে ভুলেও কি কারো সনে--
(আহা মরি মরি কোনো সুন্দরী নাও যদি যাচে মনে)
খেঁদি-বুঁচি কত আছে অন্ততঃ সুনিপুণা রন্ধনে!
পয়লা অক্টোবরে
প্রণয়ের পাশে পরাণ আমার ফাঁসালো পঞ্চশরে৷
অর্থাৎ কি না, দেখা শোনা বিনা
বিয়ের পিঁড়ির পরে
এই জনমের আইবুড়োভাত ঘুচে গেল চিরতরে৷
নিমন্ত্রিতেরা হৈ চৈ করি খেয়ে গেল কাছা খুলি
হাবিজাবি যত প্রেজেন্টেশনে ভরিয়া উঠিল ঝুলি--
পঁচিশটা পেন, তেরোটা আংটি, বাক্স অনেকগুলি,
(কোনোটা চ্যাপ্টা, কোনোটা মাঝরি, কোনোটা রয়েছে ফুলি),
এমন সময়ে উদিল স্মরণে--বেমালুম গেছি ভুলি
বধূটি আমার রাঁধিতে জানে তো? পুছি নি তো খোলাখুলি৷
পড়ে গেনু টেনশনে
কেমনে বোঝাই সেই ক্ষণে ভাই কি যে হচ্ছিল মনে!
শেষটায় রাতে ফুলশয্যাতে একাকী পেয়ে গোপনে
হইয়া মরিয়া সাহস করিয়া বসিনু বধূর সনে৷
Nervous বুক, থতমত মুখ, তার উপরে তোতলামি,
মনে ভারী ভয়, পাছে কনে কয় ''এ কি unsmart স্বামী!''
অবশেষে হায় কি দুর্দৈবে আগাপাশতলা ঘামি'-
''হ্যাঁগো, ইয়ে, তুমি রাঁধতে পারো তো ?'' পুছিয়া ফেলিনু আমি ৷
হায় অন্তর্যামী!
সেই মধুযামে মিলনের নামে এ কি ঘোর পাগলামি !
চমকি চাহিল নারী,
তাড়াতাড়ি করে বসিল সে সরে দুহাতে গুছায়ে শাড়ি৷
বুঝিনু তাতেই পয়লা রাতেই ভুল হয়ে গেছে ভারী৷
কিন্তু রাঁধতে জানে কি না সেটা জানাটাও দরকারী
এই ভেবে শেষে nervous হেসে কন্ঠে দিয়া খাঁকারি
''মানে ও গো ইয়ে'', বলি তারে, ''প্রিয়ে, ও গো হৃদয়ের রাণী,
তব রূপ-রস করেছে বিবশ পরাণতুরগখানি
সে সৌভাগ্য হবে শতগুণ যদি একবার জানি
প্রেমজালে বেঁধে কি কি পদ রেঁধে রসাবে রসনাখানি?''
বাঁধি বাহুপাশে গদ্গদভাষে কহিল তখন নারী-
''রান্না বলতে আমি না কেবল দুধ জ্বাল দিতে পারি!''
হাহাকার করে বিছানার পরে পড়ে গেনু আশা ছাড়ি!
মধুরাতি নিস্তব্ধ
ঘড়িখানা দূরে টিক টিক সুরে করে বেরসিক শব্দ৷
ভাবি কাল হতে দুজনের তরে রাঁধিব কি কচুদগ্ধ!
ওরে প্রজাপতি, বিটকেল অতি, এভাবে করিলি জব্দ!!